x

Themebari

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

Logo

Themebari

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

[themebari] / results=[3] / label=[latest] / type=[headermagazine]
শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

চলছে অশ্লীলতা, দাম্ভিকতা ও জুলুমের বিরুদ্ধে করোনাভাইরাসের রাজত্ব

প্রকাশঃ
0 জন এই প্রতিবেদনটি পড়েছেন
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...

সৈয়দ শামছুল হুদা :

বর্তমান পৃথিবীতে তিনটি জিনিস খুব ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষের কাছে প্রযুক্তির জ্ঞান বিকাশ হওয়ার পর এক ধরণের দাম্ভিকতা তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে। কোন কিছুকেই তোয়াক্কা না করা, অশ্লীলতার সাগরে হাবুডুবু খাওয়া ও দাম্ভিকতা ছড়িয়ে পড়েছে। গোটা পৃথিবীটাকে বলা হচ্ছে গ্লোবাল ভিলেজ।

বিশ্বায়নের এই যুগে মানুষের মধ্য থেকে মানবিকতা বিদায় নিয়েছে। অর্থ-বিত্তের প্রাচুর্যে আরো দেখা দিয়েছে ব্যাপক আকারে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়া এবং নিরীহ ও দুর্বলের প্রতি জুলুম করা। পৃথিবীতে সবলরা দুর্বলকে কোন অধিকারই দিতে রাজি না। দুর্বলের আইনের অধিকার পাওয়ার অধিকার নেই। দুর্বলের স্বাভাবিক ন্যায্য অধিকার পাওয়ার অধিকার নেই। রোগ-শোকে মরে গেলেও চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নেই। সহায়-সম্পদ, ভিটে-মাটি সব কেড়ে নিলেও বিচার পাওয়ার অধিকার নেই।

প্রযুক্তি আর প্রাচুর্যের বাহুল্যের কারণে একটি শ্রেণি শুধু মানুষের ওপরেই নয়, গোটা পৃথিবীর ওপর জুলুম করা শুরু করে দিয়েছে। পরিবেশ ধ্বংস করেছে। পাহাড়-জঙ্গল থেকে শুরু করে সকল প্রকার প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করছে। পশুপাখির ওপর জুলুম করছে।সুন্দরবন থেকে শুরু করে অ্যামাজান পর্যন্ত জুলুমবাজরা পৃথিবীর সব বড় বড় বনাঞ্চলগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রতিটি সমুদ্র উপকূলে প্রতিটি হোটেল-মোটেলে অপরাধের স্বর্গরাজ্য বানিয়ে ছেড়েছে। পৃথিবীর সব স্বৈরাশাসকেরা পরস্পরে বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। কেউ কারো অন্যায়ে কোন প্রকার বাধা দিচ্ছে না। নিরীহ মানুষ আর প্রাণীর ওপরে ওদের যেন শতক্রোধ। পারলে পৃথিবী থেকে দরিদ্রদের ঝেটিয়ে বিদায় করে দেয় অবস্থা। যেমনটা আমরা মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ক্ষেত্রে দেখেছি। উইগুর মুসলমানদের ক্ষেত্রে দেখেছি। কাশ্মীরের মুসলমানদের ক্ষেত্রে দেখেছি।

পৃথিবীকে বারবার ধ্বংস করা যায় এমন পরিমাণে পরমাণু অস্ত্র তারা বানিয়েছে। এগুলোর ভয় দেখিয়ে দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে আরো বেশি দুর্বল করে রাখা হয়েছে। জাতিসংঘ নামক অপদার্থ সংস্থাটি পৃথিবীর সব জুলুমবাজদের পক্ষেই নানা অজুহাতে ব্যবহৃত হয়েছে। ভারত আমাদেরকে ঘিরে রেখেছে। সীমান্তে পাখির মতো মানুষ মারছে। ভারত সবকটি প্রতিবেশি দেশের সাথে বিগব্রাদার সুলভ আচরণ করে যাচ্ছে। এমনিভাবে আমেরিকা তার আশেপাশের সবগুলো দুর্বল রাষ্ট্রের ওপর জুলুম করে আসছে। রাশিয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের নামে আশে পাশের সবগুলো মুসলিম রাষ্ট্রকেই গিলে ফেলেছিল। চীন ধুরন্ধরিপনা করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উচ্ছেদে ভূমিকা রেখেছে। জিংজিয়াং প্রদেশের উইগুর মুসলমানদের ওপর সীমাহীন জুলুম করে যাচ্ছে। সব বড় রাষ্ট্রগুলো কোন না কোন ছোট রাষ্ট্রের ওপর জুলুম করেই বড় হয়েছে। গোটা আফ্রিকা মহাদেশকে ইউরোপিয়ানরা নানা ছুঁতায় জুলুম করেছে। শোষণ করেছে।

আর সর্বত্র জুলুমবাজরা আইনকে নিজেদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করেছে। প্রশাসনকে নিজেদের লাঠিয়াল বাহিনী বানিয়ে ব্যবহার করেছে। শুধুমাত্র নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে হাজারো মানুষ খুন করছে। আর এই লোকগুলোই পৃথিবীর সর্বত্র নানা বিনোদন স্পট বানিয়ে আকাম-কুকামের বন্যা বইয়ে দিয়েছে। প্রতিটি রাষ্ট্রে এক ধরণের পেশি শক্তির উত্থান ঘটেছে যারা দুর্বলকে শাসন করবে। দাবিয়ে রাখবে। আর ফাঁকে ফাঁকে পাশবিক প্রবৃত্তি পূরণ করবে। বাংলাদেশেও এমন কালচার তৈরি হয়েছে। নারীদের মধ্যেও মাফিয়া ডন তৈরি হয়েছে। ক্যাসিনো সম্রাটরা দেশে অপরাধের বন্যা বইয়ে দিয়েছে।

নারীদেরকে তথাকথিত স্বাধীনতার নাম দিয়ে ঘর থেকে বের করেছে। এদেরকে অশ্লীলতার চরম সীমায় পৌঁছে দিয়েছে। প্রকাশ্যে যৌনতার ছড়াছড়ি। নারীদের সাথে অবাধ যৌনতার নামই যেন নারী স্বাধীনতা। প্রতিটি আবাসিক হোটেল, বার, ক্যাসিনো, ক্লাব ইত্যাদিতে নারীদের নিয়ে জমজমাট আসর বসানো হতো। অপরাধের প্রকাশ্য মহড়া চলতো। কেউ বাধা দেওয়ার সাহস পেতো না।

আজ এর সবকিছুই বন্ধ হয়েছে। এক অদৃশ্য, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাইরাস সব জুলুমবাজদের ঘরের ভিতরে ঢুকিয়েছে। সকল নারীদের গৃহবন্দী করেছে। সকল অস্ত্রকে বিকল করে দিয়েছে। করোনা ভাইরাসই আজ মহারাজা। যাকে দেখা যায় না, ছুঁয়া যায় নাম সেই অদৃশ্য শক্তির ভয়েই দুনিয়ার সকল নাস্তিক মাথা পেতে মেনে নিয়েছে। সকল স্বৈরশাসক ভয় পেয়ে গেছে। সকল মারণাস্ত্র  আজ অকেজো প্রমাণিত হযেছে। প্রতিটি অমানবিকতার নির্মম প্রতিশোধ নিচ্ছে এই করোনা ভাইরাস।

আজ দুনিয়ার সর্বত্র দুর্বলরা কিছুটা নিরাপদে আছে। হয়তো এরা পরিস্থিতির কারণে কিছুটা ক্ষুধার যন্ত্রনায় কাতর। তদুপুরি তারা মৃত্যুভয় থেকে মুক্ত। যখন-তখন পৃথিবীর স্বৈরশাসকদের হামলে পড়া বন্ধ হয়ে আছে। আজ সব বড় বড় শাসকরা ভীত-সন্ত্রস্থ। শুধু ভীত নয় দুর্বলরা। এরা মরণকে ডরায় না। এদেরকে করোনা ভাইরাস কোনরূপ মৃত্যুভয় দেখাতে পারেনি। যারা প্রতিদিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে বাঁচে, তাদের আবার করোনার ভয় কিসের?

আজ আপনার আশ-পাশ থেকে শুরু করে পৃথিবীর সকল স্বৈরশাসকদের দিকে তাকিয়ে দেখুন, তারাই আজ ভীত। মরণ যন্ত্রনায় পুতিনরা নিজেদেরকে পরিপূর্ণ শরয়ী হিজাবের ভিতরে ঢুকিয়ে নিয়েছে। ট্রাম্পরা হিজাবের প্রশংসা করছে। খুনি নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত মহানবী সা. এর আদর্শের প্রশংসা করছে।ইউরোপের সর্বত্র আজ আজানের ধ্বনি উচ্চারণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সবই করোনার দান। স্বৈরশাসকরা এখন বলতে বাধ্য হচ্ছে- উপরওয়ালাই এখন শেষ ভরসা। এতদিন গরীবরা বলতো-ওপর ওয়ালার ভরসা। একথা শুনে স্বৈরশাসকেরা হাসতেো। আজ ওরাই উপরওয়ালার ওপর বিশ্বাস করা শুরু করেছে। এ বিশ্বাস  বিশ্বে উপরওয়ালার ওপর বিশ্বাসীদের বিজয় নিয়ে আসবে ইনশাআল্লাহ।

হে করোনা! তুমি গরীবরে করেছো মহান। গরীবের মৃত্যুভয় বড়দের করেছো দান। পৃথিবীতে আল্লাহর হুকুম ছাড়া কিছুই হয় না এ বিশ্বাস প্রতিটি মুমিনের। আমরাও বিশ্বাস করি, একজন মহান কৌশলির অদৃশ্য ইশারাতেই পৃথিবীতে করোনা ভাইরাসের এই দাপুটে উপস্থিতি। আমরা তাঁর কাছেই আশ্রয় চাই। তাঁর কাছেই ক্ষমা ভিক্ষা করি। এই করোনা ভাইরাস যেন আগামীর পৃথিবীকে জুলুমমুক্ত পৃথিবী উপহার দেয় সেই অপেক্ষায়। সকল জালেমদের জন্য, পৃথিবীর ভারসাম্য শক্তির জোরে ধ্বংসকারিদের জন্য এই করোনা ভাইরাস যেন একটি শিক্ষা হয়ে থাকে সেই দুআ করি। একটি মানবিক পৃথিবী দেখার প্রতীক্ষায় আমরা।

লেখক: জেনারেল সেক্রেটারি
বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট (বিআইএম)

জাগো প্রহরী/মাসউদ আইয়ুবী This theme has been developed by OURISLABD.

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন