x

Themebari

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

Logo

Themebari

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

[themebari] / results=[3] / label=[latest] / type=[headermagazine]
শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

শিক্ষিকার ভুল: যা বললেন প্রাথমিক মহাপরিচালক

প্রকাশঃ
0 জন এই প্রতিবেদনটি পড়েছেন
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...


জাগো প্রহরী : করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সে হিসেবে ব্যঘাত ঘটছে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও। মূলত সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই অনলাইন ক্লাস চালু করেছে সরকার। সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ক্লাসগুলো সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। তবে বিপত্তি ঘটেছে গতকাল তথা ২৮ এপ্রিল।

এদিন রুটিন মোতাবেক তৃতীয় শ্রেণির গণিত ক্লাস নিচ্ছিলেন এক শিক্ষিকা। যে ক্লাসে তিনটি সংখ্যা তথা ৪১৬, ২৫৯ ও ৩৯’র যোগফল ৭১৪ হওয়ার কথা থাকলেও ভুলবশত লেখেন ৬৮৪। যার ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বুধবার ( ২৯ এপ্রিল ) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, এটা আমাদের নজরে আসছে। এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রথমত, আমরা এটা সংশোধন করে পুনঃপ্রচার করবো। তাছাড়া আমাদের সর্তক থাকতে হবে, যাতে আগামীতে এ ধরণের ভুল আর না হয়। রেকর্ডিং ক্লাসগুলো প্রচারের আগে রিচেক করা হয় কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যিনি এক্সপার্ট ওনি দেখেই দেন। হয়তো উনারও চোখে পড়েনি। যাই হোক, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তবে ওই শিক্ষিকার পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেক শিক্ষক নেতা ও সহকর্মীরা। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামসুদ্দিন মাসুদ বলছেন, ‘এই দায় মোটেও শিক্ষিকার না, এ দায় সম্পূর্ণ প্রোগ্রাম পরিচালকের। একটা ভিভিও প্রোগ্রামে উপস্থাপক, অভিনেতা, অভিনেত্রী হলেন পুতুলমাত্র! নির্দেশনা আসে পরিচালক, সহকারী পরিচালকের কাছ থেকে। হয়ত আপনারা বলবেন একজন শিক্ষক ক্লাস নিবেন এখানে আবার পরিচালক কেন?

আমার প্রশ্ন যদি পরিচালক, সম্পাদক, বিশ্লেষক না থাকেন তাহলে প্রোগ্রাম শেষে এত এত নাম যে ক্লাস শেষে টিভি মনিটরে ভেসে উঠে; এরা কারা?

মাসুদ আরো বলছেন, ‘স্নায়ুবিক দুর্বলতা অথবা অতি আত্মবিশ্বাসের কারণে শিক্ষক হয়ত ভুলটা করেছেন। কিন্তু পাশ থেকে কেউ না কেউতো মনিটরিং করেছেন। উনি কী করেছেন? এটা এমন একটা ভুল সেখানে উপস্থিত যে কেউ ধরার ক্ষমতা রাখেন। যদি আপনার পরিচালক না থাকেন, বিশ্লেষক না থাকেন তাহলে এতবড় প্রজেক্ট কেন হাতে নেওয়া হয়েছে?

দোষের সময় যদি শিক্ষক হন, তাহলে শিক্ষকদের ভিডিও সম্প্রচার করে এটুআই পেইজ যে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করে নেয়, যার সিকিভাগও শিক্ষকরা পান না; তাদের দায় কতটুকু হবে?’

এদিকে শিক্ষক নেতা মাসুদ ছাড়াও ওই শিক্ষিকার পাশে রয়েছে সংশ্লিষ্ট অনেকেই। মো. শরিফ উদ্দিন নামে এক শিক্ষক লিখেছেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল হয়। কিন্তু একজন ম্যাডামের ভুল নিয়ে অন্যের চেয়ে আমাদের শিক্ষকদের সমালোচনা কষ্টদায়ক। আমরা কি ক্লাশে এমন ভুল কখনো করিনি?’

মাহমুদুল হাসান নামে একজন লিখেছেন, ভুল সবার ই হতে পারে! কেউ বলতে পারবে না, শেণিকক্ষে কখনো আমার কোনো ভুল হয়নি। অনেক সময় শিক্ষার্থীই আমার ভুলটি ধরে,তখন কিন্তু আমার তৃপ্তি হয়। কারন, শিক্ষার্থীটি পাঠটি বুঝতে পেরেছে।হয়তো নেক্সট কোনো গনিত প্রতিযোগিতায় তাকেই আমি সিলেক্ট করি।

৬০ শিক্ষার্থীর সামনে পাঠ দিতে গিয়েই অনেক শিক্ষক নার্ভাস হয়ে যান; যদি কোনো কর্মকর্তার সামনে পাঠটি দিতে হয়। আর যখন মাথায় থাকে, সমগ্র দেশ আমার পাঠটি দেখছে তখন এটা সত্যিই সহজ কাজ না অনেকের জন্য! তবে হ্যা, অবশ্যই আরো যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক আছেন যাদের ক্যারেরাভীতি নাই, যারা সাবলীল পাঠ দিতে সক্ষম। ভবিষ্যতে শিক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আরো সতর্ক হতে হবে।

সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার কুশাল রনি বলছেন, একজন সম্মানিত শিক্ষক অনলাইনে ক্লাস নিতে গিয়ে ভুল করেছেন। বিষয়টা এমন নয় যে আমাদের শিক্ষকরা যোগ করতে পারেন না। যারা শিক্ষকতা পেশায় আছেন সবাই যোগ্যতা নিয়েই আছেন। যারা অনলাইনে পাঠদানে অংশগ্রহণ করছেন, উনারাও যোগ্যতার বলেই অংশগ্রহণ করছেন। ভুল মানুষের হতেই পারে। একটা ভুল নিয়ে এভাবে ট্রল করার কোন মানে নেই। যারা শেয়ার দিয়ে সবাইকে জানান দিচ্ছে তাদের প্রতি সমবেদনা।

একটা বিষয় শুধু ভাবাচ্ছে, শ্রেণীপাঠদান তো লাইভ দেখানো হয়নি। এটা পূর্বে তৈরি করে পরে রুটিন অনুযায়ী দেখানো হয়েছে। এরমধ্যে অনেক কাজই করতে হয়েছে, টেলিভিশনে প্রচারের আগে কারও নজরে আসলো না ভুলটা!

যদিও উল্টো সমালোচনাও করেছেন অনেক শিক্ষক। এক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি টানছেন অনেকে। একজন বলছেন, প্রাথমিকে নারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা পুরুষদের মত হলে হওয়া এই অবস্থা তৈরি হত না। ঋষ্যশৃঙ্গ গোরা নামে ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘তারাও শিক্ষক। আজকে বিটিভির ক্লাস।’ মোহাম্মদ ফাহাদ হোসেন মন্তব্য করেছেন, ‘এদের মতো কয়েকজন শিক্ষক এর জন্য গোটা শিক্ষক সমাজ আজ লজ্জিত।’ অনেকে বিষয়টি নিয়ে হাস্যরসও করেছেন।

জাগো প্রহরী/এফ আর
This theme has been developed by OURISLABD.

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন