প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
তালেবান শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই চলছে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার
প্রকাশঃ
0
জন এই প্রতিবেদনটি পড়েছেন
জাগো প্রহরী : যুক্তরাষ্ট্র যখন আফগানিস্তানে শান্তি প্রক্রিয়ার কঠিন পথে চলার চেষ্টা করছে, তখন বেশ কতগুলো বিষয় আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান সেনা প্রত্যাহারের এবং তাদের দীর্ঘতম যুদ্ধের সমাপ্তি টানার লক্ষ্যকে হুমকিতে ফেলে দিয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্ক এসপার মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন যে, ২৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানদের মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তালেবানরা সে চুক্তি মানছে না।
রয়টার্স জানিয়েছে যে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে তালেবানরা ৪৫ দিনের মধ্যে ৪৫০০টি হামলা চালিয়েছে। ১ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত হামলার মাত্রা প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে। পশ্চিমা সামরিক সূত্র এবং স্বাধীন গ্রুপগুলোর তথ্যকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স এটা জানিয়েছে।
সহিংসতা বাড়তে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র জুলাইয়ের মধ্যে তাদের সেনা সংখ্যা ৮,৬০০তে নামিয়ে আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সিএএন জানিয়েছে যে, আফগানিস্তানে ১০ হাজারেরও কম সেনা রয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে নির্ধারিত সময়ে আগেই সেনা সংখ্যা কমিয়ে আনবে যুক্তরাষ্ট্র।
আফগানিস্তানে হেলমান্দে টাস্ক ফোর্স সাউথওয়েস্টে যে সব মার্কিন মেরিনরা কর্মরত আছেন, তাদের অনেকে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন।
ইউএস সেন্ট্রাল কমাণ্ডের মুখপাত্র মেজর জন জে রিগসবি মিলিটারি টাইমসকে বলেন যে, ইউনিটটির প্রায় ১০০ মেরিন ও নাবিক দেশে ফিরছে। আফগান ন্যাশনাল আর্মির ২১৫তম কর্পসকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়ার জন্য হেলমান্দ ও নিমরোজ প্রদেশে তাদেরকে মোতায়েন করা হয়েছিল।
আফগানিস্তানের রেজল্যুট সাপোর্ট ও মার্কিন ফোর্সের সাথে যোগাযোগ করেছিল মিলিটারি টাইমস। বর্তমানে যে টাস্ক ফোর্স সাউথইস্টে নতুন মোতায়েন করা হলো এবং পুরনোদের ফিরিয়ে নেয়া হলো, এটাই সর্বশেষ মোতায়েন কি-না, সেটা জানতে চাওয়া হয়েছিল তাদের কাছে।
রিগসবি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ সেনা মোতায়েন এবং সময়সূচি নিয়ে’ তিনি কোন কথা বলবেন না।
দোহা চুক্তি অনুযায়ী ১৪ মাস সময়ের মধ্যে সকল মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করে নিতে হবে।
কিন্তু সম্প্রতি পুরো আফগানিস্তান জুড়ে যে সহিংসতা শুরু হয়েছে, বন্দী বিনিময় এবং আফগান প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে, সেটা আমেরিকার যুদ্ধ শেষ করার এবং সেনা প্রত্যাহারের লক্ষ্যকে হুমকিতে ফেলে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র আর আফগান কর্মকর্তাদের মধ্যে এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে যে, তালেবান গেরিলারা আফগান বাহিনীর উপর হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং মনে করা হচ্ছে যে, তালেবানরা চুক্তি লঙ্ঘন করছে।
তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে চার পাতার চুক্তি প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে তালেবানদের সহিংসতা কমিয়ে আনার বিষয়টি উল্লেখ নেই। চুক্তি বাস্তবায়নের ধাপগুলোর জন্য চুক্তির যে সংযুক্তি রয়েছে, সেগুলো মার্কিন কর্মকর্তারা এখনও প্রকাশ করেননি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর সরকারের একটি আফগান পুনর্গঠন বিষয়ক নজরদারি প্রতিষ্ঠানকে বলেছে যে, “চুক্তিতে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর উপর তালেবানদের হামলার বিষয়টি নিষিদ্ধ করা নেই। আফগান বাহিনীর সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা রাখার বিষয়টিও সেখানে নিষিদ্ধ করা হয়নি”।
সরকারের একটি নজরদারি প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করেছে যে, রেজল্যুট সাপোর্ট জানিয়েছে যে, তালেবানরা জোট বাহিনী এবং মার্কিন সেনাদের উপর হামলা করা বন্ধ করেছে, কিন্তু আফগান ন্যাশনাল ডিফেন্স ও সিকিউরিটি ফোর্সেসের উপর হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে।
তবে মার্কিন বাহিনী শত্রুদের টার্গেটে যে সব হামলা চালাচ্ছে, সে সব অভিযানের তথ্য প্রকাশ করা বন্ধ করেছে। মার্কিন বিমান বাহিনীর সেন্ট্রাল কমাণ্ডও আফগানিস্তানে তাদের মাসিক অভিযানের তথ্য প্রকাশ করবে না।
সিএনএ প্রথম জানায় যে, বিমান হামলার তথ্য জনগণের জন্য আর প্রকাশ করা হচ্ছে না।
এসপার সাংবাদিকদের এটাও বলেন যে, তিনি মনে করেন যে, আফগান সরকারও তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে না।
আফগান সরকার দোহা শান্তি চুক্তির অংশ ছিল না। কিন্তু বন্দী বিনিময় নিয়ে তালেবান ও কাবুলের সরকারের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়েছে, সেটার কারণে আফগান-অভ্যন্তরীণ সংলাপে বিলম্ব হচ্ছে।
সূত্র : মিলিটারি টাইমস
জাগো প্রহরী/ফাইয়াজ
This theme has been developed by OURISLABD.

Post a Comment