x

Themebari

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

Logo

Themebari

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

[themebari] / results=[3] / label=[latest] / type=[headermagazine]
শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

লকডাউনে এবার গার্মেন্ট সেক্টরেই ছাটাই হবে কোটি শ্রমিক

প্রকাশঃ
0 জন এই প্রতিবেদনটি পড়েছেন
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...

জাগো প্রহরী : করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবা সব সেক্টরকেই গ্রাস করছে। লকডাউন ও ছুটির ফাঁদে পড়ে অন্যান্য সেক্টরের ন্যায় ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি দেশের বস্ত্র খাত। পুনরায় মিল-কলকারখানা চালু হলেও কোনো শিল্প ইউনিট ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। সক্ষমতার বিপরীতে অর্ডার নেই। বড় জোর ৩০ শতাংশ শ্রমিক-কর্মচারী দিয়ে মিল ফ্যাক্টরি চালানোর সুযোগ আছে। তাও কতদিন চলবে- তা অনিশ্চিত। এ হিসাবে কমপক্ষে বস্ত্র সেক্টরের ৭০ শতাংশ কর্মীর চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গার্মেন্ট সেক্টরেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি লোকের কাজ থাকবে না। গণমাধ্যমকে এমন তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তা।

সূত্রমতে, বিজিএমইএর দাবি অনুযায়ী তাদের শ্রমিক সংখ্যা ৪৫ লাখ হলে এর ৭০ শতাংশ অর্থাৎ ৩১ লাখের বেশি শ্রমিকের কাজ থাকছে না। এছাড়া তৈরি পোশাকের পশ্চাৎপদ শিল্প যেমন স্পিনিং, টেক্সটাইল, এক্সেসরিজ, পরিবহন, ফ্রেইট ফরোয়াডার্স, সিএন্ডএফ এজেন্টসহ পরোক্ষভাবে জড়িত শ্রমিক-কর্মচারীদের বড় অংশ কর্মহীন হয়ে পড়বে। এর বাইরেও পরোক্ষভাবে একটি কারখানাকে কেন্দ্র করে আরও অনেক ছোটখাটো ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে ওঠে। সেগুলোর কাজ কিংবা আয়ের পথ বন্ধ হবে। সব মিলিয়ে হিসাব করলে কোটির কাছাকাছি হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প মালিকদের কয়েকজন রোববার গণমাধ্যমকে বলেন, বিজিএমইএর নেতারা যাই বলুক না কেন, বাস্তবতা হলো বর্তমানে গার্মেন্টে যে কাজ আছে সেখানে ৩০ শতাংশের বেশি শ্রমিক কাজে লাগানোর সুযোগ নেই। যদি সুবিধামতো অর্ডার না পাওয়া যায় তাহলে চালু রাখা তো দূরের কথা, পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেয়া ছাড়া কোনো পথ খোলা থাকবে না। এর সঙ্গে ছাঁটাইয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। কাজ না থাকলে বেতন দেবে কে? ব্যবসার স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে কেউ থাকতে পারবেন না। ইতোমধ্যে শিল্প মালিকরা লোকসান দিয়ে হলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের ধরে রেখেছেন। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হলে সামনের দিকে সামলানো সম্ভব হবে না। তারা বলেন, অবস্থাদৃষ্টে যা দেখা যাচ্ছে, তাতে সামগ্রিকভাবে বস্ত্র খাত আদৌ আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে। তাই সংকট নিরসনে সরকারকেই এখন এগিয়ে আসতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাকেঞ্জির তথ্য অনুযায়ী করোনার প্রভাবে আগের বছরের তুলনায় চলতি বছর বিশ্বের পোশাক বাজারে বিক্রি ৩০ শতাংশ হ্রাস পাবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে পোশাক রফতানি ১০ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পাবে। চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) পোশাক শিল্পে ঋণাত্মক ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি। করোনার প্রভাবে মার্চ পর্যন্ত ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্রয়াদেশ বাতিল হয়ে গেছে। কারণ বহির্বিশ্বে বাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অনেক বড় বড় ক্রেতা দেউলিয়াত্বও বরণ করেছে। অর্ডার কমে যাওয়ায় চলমান পরিস্থিতিতে কোনো কারখানাই সামর্থ্যরে শতভাগ ব্যবহার করতে পারছে না। অনেক কারখানা ৩৫ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। বড় কারখানাগুলোও ৬০ শতাংশের বেশি সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না। জুনে কারখানাগুলো গড়ে ৫৫ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার করে কোনোরকমে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখছে। জুলাইর পরিস্থিতি এখনই অনুমান করা কঠিন। ৪ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক এমন বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কারখানাগুলো ক্যাপাসিটির ৫৫ শতাংশ কাজে লাগাতে পারছে। এ ক্যাপাসিটিতে কারখানা চালিয়ে শতভাগ কর্মী রাখা উদ্যোক্তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এমন প্রেক্ষাপটে জুন থেকে শ্রমিক ছাঁটাই করা হতে পারে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা, কিন্তু করার কিছু নেই।

বিকেএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ভোগ ও চাহিদা কমে যাওয়ায় সারা বিশ্বেই শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে। বাংলাদেশেও এর বাইরে নয়। কারণ একদিকে পোশাকের অর্ডার কমে গেছে। অন্যদিকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কারখানায় লে-আউট প্ল্যান পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে ৩০ শতাংশ মেশিন সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। সেই ৩০ শতাংশ শ্রমিককেও সরকারের প্রণোদনা তহবিলের টাকায় এপ্রিল ও মে মাসে কাজ ছাড়া বেতন দেয়া হয়েছে। এ টাকা মালিকদেরই পরিশোধ করতে হবে। এ অবস্থা চলতে থাকলে তৈরি পোশাক খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় এক কোটি শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো মালিকই শ্রমিক ছাঁটাই করতে চান না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, মহামারীর কাছে মালিকরা অসহায়। শুধু গত ২ মাসেই প্রায় ৩শ’ গার্মেন্ট বন্ধ হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে কী হবে তা কেউ বলতে পারছে না। যারা কখনও ১শ’ মানুষের কর্মসংস্থান করতে পারেনি তারাই প্রেক্ষাপট না বুঝে গার্মেন্ট মালিকদের সমালোচনা করছেন। এছাড়া তৈরি পোশাকের পশ্চাৎপদ শিল্পে করোনার আঘাত লেগেছে। টেক্সটাইল, এক্সেসরিজ, পরিবহন, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স খাতে চাহিদা কমেছে। এসব খাতে কর্মরত শ্রমিকরাও কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, তৈরি পোশাকের পশ্চাৎপদ শিল্প হিসেবে টেক্সটাইল খাতও কোভিড-১৯ এ চরম ক্ষতিগ্রস্ত। অর্ডার যেভাবে বাতিল হচ্ছে, তাতে রফতানিমুখী টেক্সটাইল খাতের উৎপাদন কমবে। পাশাপাশি দেশে লকডাউন থাকায় স্থানীয় সুতা-কাপড়ের চাহিদা কমে এসেছে। এভাবে চললে ভবিষ্যতে কী হবে তা বলা যাচ্ছে না। উদ্যোক্তারা এখন লাভের জন্য নয়, বেঁচে থাকার জন্য কারখানা চালাচ্ছেন। কিন্তু করোনা দীর্ঘায়িত হলে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যাবে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি আবদুল কাদের খান বলেন, আগের অর্ডার দিয়ে জুন পর্যন্ত কারখানা চালানো যাবে। কিন্তু জুলাইয়ে কী হবে তা বলা যাচ্ছে না। গার্মেন্ট থেকে এক্সেসরিজের অর্ডার দিচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, সামাজিক দূরত্ব মেনে কারখানা চালু করায় ৩০ শতাংশ শ্রমিক কম লাগছে। এখন ৭০ শতাংশ শ্রমিক দিয়ে কারখানা চলছে। কিন্তু রূঢ় বাস্তবতা হচ্ছে, অর্ডার না থাকলে কারখানা চালানো যাবে না। আর মালিকরা শ্রমিকদের বসিয়ে বেতন দিতে পারবে না। তখন বাধ্য হয়েই মালিকদের শ্রমিকদের ছাঁটাই অথবা বেতন কমিয়ে কাজে রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব উল আনাম বলেন, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা গার্মেন্টের কাজ করে। এপ্রিলে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় কাজ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। মে মাসে গার্মেন্ট চালু হলে কাজ কিছুটা শুরু হয়। সংগঠনের অনেক সদস্যের কাজ না থাকায় কর্মচারী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছে। বন্দরে কন্ট্রাক্টে কাজ করা শ্রমিকরাও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী বলেন, ছোট-বড় মিলিয়ে সাড়ে ৩ লাখ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান রাস্তায় চলাচল করে। এর মধ্যে বড় কাভার্ড ভ্যান গার্মেন্টের পণ্য আনা-নেয়া করত। কিন্তু করোনার কারণে লকডাউন দেয়ায় এবং গার্মেন্টের অর্ডার কমে যাওয়ায় কাভার্ড ভ্যান মালিকদের অবস্থা খুবই খারাপ। আগে যেখানে রফতানি পণ্য নিয়ে দিনে এক হাজার গাড়ি রাস্তায় চলাচল করত, এখন সেখানে ৫০টি গাড়িও ভাড়া হয় না। পরিবহন শ্রমিকদের অবস্থা খুবই নাজুক। সরকারি কোনো সাহায্যও পরিবহন শ্রমিকরা পাননি। সামনের দিনগুলোতে কী হবে তা কেউ বলতে পারছে না।

জাগো প্রহরী/এফআর
This theme has been developed by OURISLABD.

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন