প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
জাতির পিঠে ছুরি মেরেছে আমিরাত: ইরান
প্রকাশঃ
0
জন এই প্রতিবেদনটি পড়েছেন
![]() |
| চুক্তির প্রতিবাদে শাসকদের প্রতিকৃতি নিয়ে বিক্ষোভে নেমেছেন ফিলিস্তিনি জনগণ |
জাগো প্রহরী: ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ‘শান্তি’ চুক্তির নিন্দা জানিয়েছে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। ইরান বলছে, এই চুক্তি করে আমিরাত মুসলিম উম্মাহর পিঠে ছুরি মেরেছে। আর তুরস্ক বলেছে, এই চুক্তি করে আমিরাত যে ভণ্ডামি করেছে, সেটা এই অঞ্চলের জনগণ ভুলবে না।
এদিকে ফিলিস্তিনের সব পক্ষ ইসরায়েল-আমিরাতের এই চুক্তির নিন্দা জানিয়েছে। চুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভে নেমেছেন ফিলিস্তিনিরা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমিরাত ও ইসরায়েল কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে চুক্তি করেছে, তা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে। লজ্জাজনক এই চুক্তি উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াবে। এই অঞ্চলে এ ধরনের সব কর্মকাণ্ডের দায় আমিরাতকে নিতে হবে।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এই অঞ্চলের মানুষ কখনোই আমিরাতের এই ভণ্ডামি ভুলবে না, তারা কখনোই আমিরাতকে ক্ষমা করবে না। ফিলিস্তিনের বিষয়ে ইসরায়েল সঙ্গে মধ্যস্থতা করার কোনো অধিকার আমিরাতের নেই।
চুক্তির প্রতিবাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও আবুধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ আল নাহিয়ানের প্রতিকৃতি নিয়ে বিক্ষোভে নেমেছেন ফিলিস্তিনিরা। ছবি: রয়টার্স
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাই এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ১০ বছর ধরে আমিরাত নিজেকে ইসরায়েলের স্বর্গ হিসেবে তৈরি করেছে। তিনি আরব অঞ্চলে ইসরায়েলের গোয়েন্দা বাহিনী মোসাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমিরাতকে অভিযুক্ত করেন।
এদিকে হামাস, ইসলামিক জিহাদসহ ফিলিস্তিনের সব পক্ষ এই চুক্তির বিরুদ্ধে নিন্দাজ্ঞাপন করেছে। ফিলিস্তিনের সমাজ কল্যাণমন্ত্রী আহমেদ মাজদালিন বলেন, ফিলিস্তিনিদের এমন সংকটকালে আমিরাত কেন এমন চুক্তি করল, সে ধারণা আমাদের নেই। চুক্তি হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই দুই দেশের ‘ঐতিহাসিক চুক্তির’ কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তির আওতায় অধিকৃত পশ্চিম তীরের আরও ভূমি দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা ইসরায়েল স্থগিত করবে বলে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে যৌথ বিবৃতি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও আবুধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ আল নাহিয়ান।
ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের এই চুক্তি উপসাগরীয় কোনো দেশ হিসেবে প্রথম ও আরব দেশ হিসেবে তৃতীয় ঘটনা। এর আগে ১৯৭৯ সালে মিসর ও ১৯৯৪ সালে জর্ডান শান্তি চুক্তি করেছিল ইসরায়েলের সঙ্গে। এর বাইরে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলোর কারও সঙ্গেই ইসরায়েলের কূটনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই। যদিও ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রায় সবাই ইসরায়েলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ রাখছে বলে জানা যাচ্ছে।
জাগো প্রহরী/এফআর
This theme has been developed by OURISLABD.

Post a Comment