ঢাবিতে মোদিবিরোধী বিক্ষোভে ছাত্রলীগের হামলা ২ সাংবাদিকসহ আহত ২৪
জাগো প্রহরী ডেস্ক : স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী গুজরাটের কসাই খ্যাত নরেন্দ্র মোদির আগমনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হামলা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের হামলায় প্রগতিশীল ছাত্রজোটের প্রায় ২০জন নেতকর্মী আহত হয় বলে দাবি করেছে জোট। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হওয়া ছাড়াও জোটের এক নারী কর্মীকে মাথা ফাটা অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে এদিন সকালে ছাত্র ফেডারেশনের মোদির কুশপুত্তলিকা দাহ করার কর্মসূচি থেকে ছাত্রলীগ নেতারা কুশপুত্তলিকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এতে ক্যাম্পাস জুড়ে সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিকেলে টিএসসিতে বিক্ষোভ ও মোদির কুশপুত্তলিকা দাহ করার কর্মসূচি শুরু করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। পাঁচটায় প্রগতিশীল ছাত্র জোট টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রোকেয়া হল-রাজু ভাস্কর্য-শাহবাগ হয়ে পুনরায় রাজু ভাস্কর্য সংলগ্ন ডাসের সামনে নরেন্দ্র কুশপুত্তলিকা দাহ প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। এসময় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী এসে কুশপুত্তলিকা কেড়ে নেয়। এতে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ছড়িয়ে পড়ে। হাতাহাতির এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা কুশপুত্তলিকা নিয়ে চলে গেলে প্রগতিশীল কর্মীরা মোদী বিরোধী ব্যানার পোস্টার পোড়ায়। এর একটু পরেই ডাসের পেছনের অংশ অবস্থান নেয়া একদল ছাত্রলীগ নেতাকর্মী হামলা শুরু করে। জোটের নেতাকর্মীরা পাল্টা প্রতিরোধ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ইট পাটকেল ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। হামলার এক পর্যায়ে প্রগতিশীল ছাত্র জোট পিছু হটলে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের দাওয়া করে মিশুক মুনীর চত্বরের সামনে এনে পুনরায় মারধর করে। জোটের নেতাকর্মীদের ছাত্রলীগ হেলমেট, ইট, ডাব দিয়ে মারধর করে।
ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রজোটের নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও পথচারীসহ ২০জন মারাত্মক আহত হয়েছে। তবে জোটের দাবি তাদের অর্ধশতাধিকের বেশি নেতাকর্মী মার খেয়েছে। ছাত্রজোটের এক নারী কর্মীর মাথা ফেটে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। আহত হন দেশ রূপান্তরের ফটো সাংবাদিক রুবেল রশিদ, মানবজমীনের জীবন আহমদ। পরে আহত নেতাকর্মীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ছাত্র ইউনিয়নের বহিষ্কৃত যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মেঘমল্লার বসু, ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার।
ছাত্রফ্রন্ট ঢাবি শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, আমাদের মিছিলে ছাত্রলীগ হঠাৎ করে হামলা চালায়, আমরা কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি। এতে আমাদের ২০-২২ জন আহত হয়েছে, এখন ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি আছেন প্রায় ১৫ জন। ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার এবং ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রগতি বর্মন তমা এবং মেঘমল্লার বসু গুরুতর আহত হয়েছে। পরবর্তী কর্মসূচি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সন্ধ্যায় আমরা একটা মিছিল করতে পারি এবং ২৫ তারিখে হামলা এবং মোদি বিরোধী মিছিল করব।
এদিকে সকালে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাড়ে এগারোটায় সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মোদির আগমনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও কুশপুত্তলিকা দাহ করার কথা ছিলো ছাত্র ফেডারেশনের। কর্মসূচি উপলক্ষে সকাল থেকে তাদের নেতাকর্মীরা টিএসসিতে জড়ো হয়। মোদির কুশপুত্তলিকা বানিয়ে রাখা হয় টিএসসিতে। অন্যদিকে বিকাল তিনটায় ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিলে যোগদানের জন্য সকাল থেকে রাজু ভাস্কর্য দখলে নেয় ছাত্রলীগের উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক রিয়াদ হাসানের নেতৃত্বে কবি নজরুল কলেজের নেতাকর্মীরা। ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি সামপ্রদায়িক, ফ্যাসিস্ট নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আমরা একটি কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর কর্মসূচি দেয়। সে লক্ষ্যে আমরা একটি কুশপুত্তলিকা তৈরি করে টিএসসি গেইটে রাখি। তখন রাজু ভাস্কর্য থেকে ছাত্রলীগের ৩০-৪০জন নেতাকর্মীরা এসে কুশপুত্তলিকা নিয়ে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।
পরে বেলা পৌনে একটার দিকে টিএসসি থেকে মিছিল বের করে ছাত্র ফেডারেশন। এ সময় তারা ‘গো ব্যাক মোদি, গো ব্যাক ইন্ডিয়া, ফ্যাসিবাদের আস্তানা, জ্বালিয়ে দাও পুড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে রাজু ভাস্কর্যে কাছাকাছি আসলে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জয় বাংলা স্লোগান দিতে শুরু করে। কুশপুত্তলিকা ছিনতাইয়ের বিষয়ে সকালে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি আমাদের দেশে আসছেন। তাঁর আগমনকে আমরা স্বাগত জানাই। কারা তাঁর কুশপুতুল নিয়ে গেছে আমি জানি না।
জাগো প্রহরী/এফআর
This theme has been developed by OURISLABD.


Post a Comment